যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদী বন্ধকি ঋণের গড় সুদহার চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। মার্কিন সরকার-সমর্থিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের (ফেডারেল হোম লোন মর্টগেজ করপোরেশন) তথ্যানুযায়ী, গতকাল সুদহার আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১০ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। গত বছরের একই সময়ে সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। খবর এপি।
১৫ বছরের নির্দিষ্ট সুদের বন্ধকি ঋণের গড় হারও কমেছে। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, আগের সপ্তাহের ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ থেকে নেমে সুদহার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
২০২২ সালের শুরুর দিকে মহামারীর সময়কার অতিমাত্রায় নিম্ন সুদহার থেকে মার্কিন বন্ধকি ঋণের হার বাড়তে শুরু করে। এতে আবাসন বাজারে বিক্রি গত বছর প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। চলতি বছরে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো এ হার কমেছে। তবে বছরের শুরুতে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে পৌঁছানো এ হার এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি।
মার্কিন বন্ধকি ঋণের হার মূলত ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার নীতি, অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বন্ড বাজারের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড এ হারের প্রধান মানদণ্ড। গত সপ্তাহে দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর এ ইল্ড কিছুটা কমে যায়। ওই সময়েই বন্ধকী ঋণের সুদহার কমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড এখনো ঋণের সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে ওয়াল স্ট্রিটের অনেকেই মনে করছেন, সেপ্টেম্বরে হার কমানো হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হার কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সুদহার কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন রিয়েল এস্টেট তথ্য ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্রাইট এমএলএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ লিসা স্টারটেভান জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই নিম্ন সুদহারকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে এর ধারা অনিশ্চিত। হার কমলে বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে, যা বাড়ির দামও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রিয়েলটর ডটকম ও ফ্যানি মের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে গড় হার কমে প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।